ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত গোপালগঞ্জ জেলাধীন টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমরিয়া ইউনিয়নের ০৬ নম্বর ওয়ার্ডে শৈলদাহ নদীর পাড়ে ৩ (তিন) বর্গকিলোমিটার ক্যাচমেন্ট এলাকা সম্বলিত ডুমরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ও ডুমরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ৩৬নং ডুমরিয়া বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীন সার্বভেৌম বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নেতৃত্বে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নির্বাচনের পর তিনি নিজ জন্মভূমি টুঙ্গিপাড়া সফরে আসেন। উক্ত সফরকালে বাইগার শৈলদাহ নদী পথে স্পীড বোটে করে কোটালীপাড়ায় যাওয়ার পথে তৎকালীন কোটালীপাড়া থানার অন্তর্গত ডুমরিয়া গ্রামবাসীর অনুরোধে তিনি উক্ত গ্রামে যাত্রা বিরতি করেন। ডুমরিয়া গ্রামবাসী তাঁকে বিরোচিত ফুলেল সংবর্ধনা প্রদান করেন এবং বঙ্গবন্ধুর পূর্ব প্রতিশ্রুতি আজকের ৩৬ নং ডুমরিয়া বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের অনুরোধ জানালে তিনি তৎক্ষনাৎ ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকার একটি চেক উক্ত গ্রাম বাসীকে একটি প্রাথমিক স্থাপনের উদ্দেশ্যে প্রদান করেন এবং তথায় বিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। জানুয়ারী, ১৯৭১ সালে বাশ-কাঠ-সন-গোলপাতায় তৈরী হয় বিদ্যালয়ের প্রাথমিক অবকাঠামো।
অতদাঞ্চলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন আধুনিক শিক্ষার বিস্তার ঘটানোর অঙ্গিকার বাস্তবায়নে সেদিন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ডুমরিয়া গ্রামের বিশিষ্ট জনেরা অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছিরৈন। এদের মধ্যে সদ্য স্বর্গীয় বাবু অনন্ত কুমার মন্ডল, বাবু নিমাই চাঁদ মন্ডল, সাবেক ইউ,পি চেয়ারম্যান স্বর্গীয় বাবু প্রফুল্লকুমার বিশ্বাস, বাবু শুশান্ত ভট্টাচার্য, বাবু পঞ্চানন বিশ্বাস, বাবু বীন্দ্রে নাথ বিশ্বাস, বাবু রাম পোদ্দার, বাবু অনিল কৃষ্ণ মন্ডল, বাবু ব্রজেশ্বর বিশ্বাস, বাবু মধুসুধন মন্ডল, বাবু কার্তিক কিত্তুর্ণীয়া, বাবু হরিপদ দাস এবং বাবু মহারাজ পাত্র- প্রমুখ ব্যক্তিবর্গের নাম উল্লেখযোগ্য। নাম না জানা আরো অনেক সমাজ সেবক সেদিন বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিতে ধন্য হয়ে ছিলেন এবং বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ভুমিকা রাখেন।
১২/০৫/১৯৭৩ইং সালে বিদ্যালয়ের জন্য ৪০ শতাংশ জমিদান করেন বাবু দেবীপদ রায়। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক ছিলেন বাবু ব্রজেশ্বর বিশ্বাস, তাঁর ব্যক্তিগত ত্যাগ তিতিক্ষা আর অক্লান্ত শ্রম সাধনায় বিদ্যালয়টি শত বাধা অতিক্রম করে বিদ্যালয়টি ডুমরিয়া ইউনিয়নে খ্যাতি লাভ করে। ১৯৭৩ সালে জাতির পিতার ঘোষণায় বিদ্যালয়ের জাতীয়করণ হয়। অতপর একে একে প্রধান শিক্ষক হয়ে আসেন বাবু সুখলাল বিশ্বাস ও বাবু সচীন্দ্র নাথ অধিকারী। ২৫/০৩/১৯৮৬ তারিখে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হয়ে আসেন বিজ্ঞন বাবু ধীরেন্দ্র নাথ চৌধুরী তার সময়ে বিদ্যালয়ের ৪ কক্ষ বিশিষ্ট টিন শেড বিল্ডিং এবং টিনের তৈরী হোস্টেল ঘরের নির্মাণ কাজ সু-সম্পন্ন হয়। একই সাথে বিদ্যালয় "এ" গ্রেডে উন্নীত হয়। তিনি একাধারে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির স্বনামধন্য সেক্রেটারী ও সভাপতির দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ২৯/১২/২০০৫ সালে অবসর গ্রহণ করেন।
তারপরের দুই বছর প্রধান শিক্ষকের পদ শূণ্য এবং শিক্ষক স্বল্পতার কারণে বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম কিছুটা ঝিমিয়ে পড়ে। তথাপি দায়িত্বরত প্রধান শিক্ষক বাবু সমীর কুমার বিশ্বাসের প্রচেষ্টায় বর্তমান দ্বিতল ভবনের প্রথম তলার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপিত হয়।
২০০৭ সালের জুলাই মাসের ০৪ তারিখে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হয়ে আসেন মোঃ রইচ বিশ্বাস, তার যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয়ের ক্রমোন্নতি ঘটতে থাকে। সু-সম্পন্ন হয় ০৫ (পাঁচ) কক্ষ বিশিষ্ট দ্বিতল ভবনের কাজ। পুনঃউদ্ধার হয় বিদ্যালয়ের বেদখলকৃত জমি। অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ছাত্র/ছাত্রী সংখ্যা ৩০০ জনে উন্নীত হয়। বিদ্যালয়ে বর্তমানে বরাদ্দকৃত ০৭টি পদে ০৭ (সাত) জন শিক্ষকই কর্মরত। রয়েছে দপ্তরী-কাম-প্রহরীো। মোঃ রইস বিশ্বাস প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করার থেকে অর্থাৎ ২০০৭ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত পাবলিক/সমাপনী পরীক্ষায় পাশের হার শতভাগ উন্নীত হয়েছে। গত ছয় বছরে উপজেলা মেধা তালিকায় মেয়েদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানসহ ০৫জন ছাত্র/ছাত্রী বৃত্তি পেয়েছে। ২০০৭ সালে একজন মেয়ে ছাড়া গত ছয় বছরে কেউ অকৃতকার্য হয়নি। প্রধান শিক্ষক মৌঃ রইচ বিশ্বাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম,ফিল ডিগ্রী সম্পন্ন করে অনিয়মিত ভাবে 'বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালির ভুমিক' শীর্ষক অভিমনূভের উপর পিএইচডি গবেষনা করছেন।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন স্বর্গীয় বাবু ধীরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস। অতঃপর একে একে দায়িত্ব পালন করেন সদ্য স্বর্গীয় বাবু অন্ত কুমার মন্ডল, বাবু বীরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, স্বর্গীয় বাবু প্রফুল্ল কুমার বিশ্বাস, বাবু অনন্ত কুমার মন্ডল, তিন মেয়াদে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি তাইর সুযোগ্য পুত্র বাবু রমেশ চন্দ্র মন্ডল।
প্রতিষ্ঠাকাল থেকে অদ্যাবধি অন্তত ৫০ জন সহকারী শিক্ষকের পদচারনা রয়েছে বিদ্যালয়ে। তাদের শ্রম সাধনাই বিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।
ক্রমিক নং | নাম | পদবী |
১ | বাবু রমেশ চন্দ্র মন্ডল | সভাপতি |
২ | শ্রীমতি প্রভাবতী বিশ্বাস | সহ-সভাপতি |
৩ | বাবু শৈলেন মন্ডল | সদস্য |
৪ | বাবু সুখময় বিশ্বাস | ,, |
৫ | জনাবা শাহানা বেগম | ,, |
৬ | শ্রীমতি অঞ্জনা বিশ্বাস | ,, |
৭ | বাবু বিপুল কান্তি বিশ্বাস | ,, |
৮ | বাবু মোহন লাল (নিহার) মন্ডল | ,, |
৯ | জনাব মোঃ খোকন তালুকদার | ,, |
১০ | শ্রীমতি রত্না চৌধুরী | ,, |
১১ | মোঃ রইচ বিশ্বাস | সদস্য সচিব |
২০০৮ সাল পাশের হার ১০০%
২০০৯ সাল পাশের হার ১০০%
২০১০ সাল পাশের হার ১০০%
২০১১ সাল পাশের হার ১০০%
২০১২ সাল পাশের হার ১০০%
বর্তমানে বিদ্যালয়ের মোট ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে ৯১জনের মধ্যে উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ যাবৎ কাল অসংখ্য গুণগ্রাহী ব্যক্তি তৈরী করা; যারা সমাজে নানা উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে জড়িত।
প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করে পাঠচক্র সম্পন্ন করা এবং ভবিষ্যতে এটিকে একটি কলেজিয়েট স্কুলে রূপান্তরিত করা
ঢাকার গাবতলী অথবা সায়েদাবাদ বাস ডিপো থেকে বাসে অথবা সদরঘাট থেকে লঞ্চ যোগে পাটগাতী বন্দর হয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পূণ্যভূমি টুঙ্গিপাড়ায়। অতঃপর লোকাল বাসে লেবুতলা বাসষ্ট্যান্ড। সেখান থেকে ভ্যানযোগে ৩৬নং ডুমরিয়া বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
১ম শ্রেণীঃ
২য় শ্রেণীঃ
৩য় শ্রেণীঃ
৪র্থ শ্রেণীঃ
৫ম শ্রেণীঃ
পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, এটুআই, বিসিসি, ডিওআইসিটি ও বেসিস